Category : Health

বাংলাদেশে নার্সিং পড়াশুনা

By Staff Panel | May 20th, 2019 | Print this study
বাংলাদেশে নার্সিং পড়াশুনা

লেডি উইথ ল্যাম্প খ্যাত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল এর স্বপ্নের নার্সিং পেশা বর্তমানকালে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিশ্বব্যাপী। মানবসেবার সুমহান ব্রত নিয়ে কাজ করে যাওয়া নার্সিং পেশা বাংলাদেশেও বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমানে ভাল বেতনের পাশাপাশি নানাবিধ সু্যোগ সুবিধা থাকায় তরুনীরা সহজেই এই পেশায় ঝুকছে।

নার্সিং কলেজ

একটা সময় ছিল যখন আমাদের দেশে মেডিক্যাল সম্পর্কিত বিষয়ে পড়ার ইচ্ছে থাকলেও অধিকাংশ মানুষের ই সুযোগ থাকত না। কিন্তু এখন দেশে মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি অসংখ্য নার্সিং কলেজ গড়ে উঠায় এই রিলেটেড বিষয়ে পড়াশুনার ব্যাপক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আগে নার্সিং এর উপর শুধুমাত্র ডিপ্লোমা এবং প্রাইমারি কোর্সই চালু ছিল। তবে বর্তমানে এইবিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নার্সিংয়ের ওপর অনার্স কোর্স চালু আছে। নিম্নে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট কতটি প্রতিষ্ঠান এবং অন্তর্ভুক্ত আসন সংখ্যার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যসেবা পরিদপ্তরের প্রশাসনাধীন নার্সিং ইনস্টিটিউট সংখ্যা মোট ৪৩টি এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মোট আসন হল ১,৫৫০টি

১. নার্সিং ইনস্টিটিউট, মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকা। আসন সংখ্যা = ৫০

২. নার্সিং ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা। আসন সংখ্যা =৫০

৩. নার্সিং ইনস্টিটিউট, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,ফরিদপুর। আসন সংখ্যা = ৫০

৪. নার্সিং ইনস্টিটিউট, জেনারেল হাসপাতাল, খুলনা। আসন সংখ্যা = ৫০

৫. নার্সিং ইনস্টিটিউট, মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, বগুড়া। আসন সংখ্যা = ৫০

৬. নার্সিং ইনস্টিটিউট, জেনারেল হাসপাতাল, দিনাজপুর। আসন সংখ্যা =৫০

৭. নার্সিং ইনস্টিটিউট, জেনারেল হাসপাতাল, নোয়াখালী। আসন সংখ্যা = ৫০

৮. নার্সিং ইনস্টিটিউট, জেনারেল হাসপাতাল, পাবনা। আসন সংখ্যা = ৫০

৯. নার্সিং ইনস্টিটিউট, জেনারেল হাসপাতাল, যশোর। আসন সংখ্যা = ৫০

১০. নার্সিং ইনস্টিটিউট, জেনারেল হাসপাতাল, কুষ্টিয়া। আসন সংখ্যা =৫০

১১. নার্সিং ইনস্টিটিউট, জেনারেল হাসপাতাল, টাংগাইল। আসন সংখ্যা =৫০

১২. নার্সিং ইনস্টিটিউট, জেনারেল হাসপাতাল, রাংগামাটি। আসন সংখ্যা = ৫০

১৩. নার্সিং ইনস্টিটিউট, জেনারেল হাসপাতাল, পটুয়াখালী। আসন সংখ্যা = ৫০

১৪. নার্সিং ইনস্টিটিউট, জেনারেল হাসপাতাল, সিরাজগঞ্জ। আসন সংখ্যা = ৩০

১৫. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, মুন্সিগঞ্জ। আসন সংখ্যা =৩০

১৬. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, চুয়াডাঙ্গা। আসন সংখ্যা = ৩০

১৭. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, মাগুরা। আসন সংখ্যা = ৩০

১৮. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, কক্সবাজার। আসন সংখ্যা = ৩০

১৯. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, মৌলভীবাজার। আসন সংখ্যা = ৩০

২০. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, শেরপুর। আসন সংখ্যা = ৩০

২১. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, চাপাই-নবাবগঞ্জ। আসন সংখ্যা = ৩০

২২. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, জয়পুরহাট। আসন সংখ্যা =৩০

২৩. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা। আসন সংখ্যা = ৩০

২৪. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁ। আসন সংখ্যা =৩০

২৫. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, রাজবাড়ী। আসন সংখ্যা = ৩০

২৬. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আসন সংখ্যা = ৩০

২৭. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, ফেনী। আসন সংখ্যা = ৩০

২৮. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, বাগেরহাট। আসন সংখ্যা = ৩০

২৯. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, কুড়িগ্রাম। আসন সংখ্যা =৩০

৩০. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, ভোলা। আসন সংখ্যা = ৩০

৩১. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, নেত্রকোণা। আসন সংখ্যা = ৩০

৩২. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ। আসন সংখ্যা = ৩০

৩৩ নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, মাদারীপুর। আসন সংখ্যা = ৩০

৩৪. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, পিরোজপুর। আসন সংখ্যা =৩০

৩৫. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, বরগুনা। আসন সংখ্যা = ৩০

৩৬. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, নওগাঁ। আসন সংখ্যা = ৩০

৩৭ নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, নীলফামারী। আসন সংখ্যা = ৩০

৩৮ নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, পঞ্চগড়। আসন সংখ্যা = ৩০

৩৯. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ। আসন সংখ্যা = ৩০

৪০ নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, জামালপুর। আসন সংখ্যা =৩০

৪১. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, ঝিনাইদহ। আসন সংখ্যা =৩০

৪২ নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, চাঁদপুর। আসন সংখ্যা = ৩০

৪৩. নার্সিং ইনস্টিটিউট, সদর হাসপাতাল, হবিগঞ্জ। আসন সংখ্যা =৩০

সরকারি উপরোক্ত নার্সিং প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারী পর্যায়ে ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্স চালু রয়েছে। দেশে বেসরকারি এইসব ইনস্টিটিউট মোট ৩৯টি এবং মোট আসন সংখ্যা ১,৫২০টি।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ভর্তির যোগ্যতা

বর্তমানে বাংলাদেশে নার্সিং পড়ার উপর দুই ধরনের কোর্স চালু রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং/ Midwifery কোর্স যা ৩ বছর মেয়াদী অপরপক্ষে দ্বিতীয়টি হচ্ছে বিএসসি নার্সিং (বেসিক) যা ৪ বছর মেয়াদী। ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কোর্সে এস.এস.সি পাশের পরই ভর্তি হওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্রার্থীর এস.এস.সি তে ন্যূনতম যোগ্যতা থাকতে হয় জিপিএ ২.৫। বিএসসি ইন নার্সিংয়ে ভর্তি হতে চাইলে প্রার্থীকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অথবা সমমানের পরীক্ষার প্রতিটিতে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫০ করে পেতে হবে। বিজ্ঞানবিভাগে পড়ুয়াদের জন্য অগ্রাধিকার হলেও মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হতে পারে এই বিভাগে। ভর্তি সাধারণত জিপিএ’র ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। প্রতিবছর সাধারণত এইচএসসি’র ফলাফল বের হওয়ার পরপরই ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। ভর্তির সার্বিক খরচ বাবদ তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা লাগে। তবে গরিব ও মেধাবীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। সুতরাং, আপনি যদি পড়াশুনা শেষ করার পরপরই নিশ্চিত একটি চাকরীর প্রত্যাশী হন এবং মানব সেবার মতো মহৎ পেশার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চান তাহলে নার্সিং পেশাকে আপনার ক্যরিয়ার হিসেবে আজই লক্ষ্য নির্ধারন করে ফেলুন।

Tag Cloud:
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর নার্সিং আসন সংখ্যা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ভর্তি নার্সিং কলেজে ভর্তির যোগ্যতা

×